যমুনা অয়েলের নিট মুনাফা বেড়েছে ৩৮ শতাংশ

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ।

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে যমুনা অয়েলের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৪০৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৯৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে ১১১ কোটি ১ লাখ টাকা বা ৩৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে যমুনা অয়েলের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩৬ টাকা ৬৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৬ টাকা ৬০ পয়সা।

চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে যমুনা অয়েলের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৪০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৮৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে যমুনা অয়েলের ইপিএস হয়েছে ১২ টাকা ৭৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮ টাকা ১৪ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৫৫ টাকা ৬৯ পয়সায়।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে যমুনা অয়েলের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪০ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩০ টাকা ৮৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২২৮ টাকা ৬১ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে যমুনা অয়েলের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩০ টাকা ৮৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৬ টাকা ৮৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২০৫ টাকা ৪৯ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল যমুনা অয়েল। সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরেও বিনিয়োগকারীদের ১২০ শতাংশ নগদ দিয়েছিল যমুনা অয়েল। সমাপ্ত ২০১৯-২০ হিসাব বছরেও ১২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। সমাপ্ত ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ১৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।

যমুনা অয়েলের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল এ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।

২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যমুনা অয়েলের অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১১০ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ৪৫৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট ১১ কোটি ৪ লাখ ২৪ হাজার ৬০০টি শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ২ দশমিক ৯০ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ৬০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ সরকার, ২৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, দশমিক ২২ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

আরও